মোহাম্মদপুর, ঢাকায় রুট ক্যানেল চিকিৎসা
রুট ক্যানেল (এন্ডোডন্টিক চিকিৎসা) হলো দাঁতের ভেতরের সংক্রমিত বা ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু ও রক্তনালির অংশ (পাল্প) পরিষ্কার করে ক্যানেলগুলো আকৃতি দিয়ে সিল করার চিকিৎসা, যাতে দাঁতটি তুলে না ফেলে রাখা যায়। মোহাম্মদপুর ডেন্টালে মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার রোগীদের জন্য রুট ক্যানেল চিকিৎসা দেওয়া হয়। কার্যকর লোকাল অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়, যাতে প্রক্রিয়াকালীন অস্বস্তি ও ব্যথা যথাসম্ভব কম থাকে।
চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে
প্রতিটি দাঁতের ভেতরে পাল্প নামের একটি নরম টিস্যু থাকে, যেখানে স্নায়ু ও রক্তনালি আছে। গভীর পোকা, ফাটল, পুরনো ফিলিং দিয়ে জীবাণু ঢোকা বা আঘাতের কারণে জীবাণু পাল্পে পৌঁছালে সেটি প্রদাহ বা সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। এতে সাধারণত ব্যথা হয়, আর চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ দাঁতের গোড়ার হাড়ে ছড়িয়ে ফোড়া (অ্যাবসেস) তৈরি করতে পারে।
রুট ক্যানেলে ডেন্টিস্ট আক্রান্ত পাল্প সরিয়ে ক্যানেলের ভেতর জীবাণুমুক্ত করেন এবং বিশেষ উপাদান দিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেন। এরপর দাঁতটিতে ফিলিং বা প্রয়োজনে ক্রাউন করা হয়। দাঁত তুলে ফেলার চেয়ে নিজের দাঁত রাখতে পারা সাধারণত ভালো, কারণ এতে কামড় ও পাশের দাঁতগুলো স্থিতিশীল থাকে।
কার জন্য এই চিকিৎসা প্রয়োজন?
- তীব্র বা দপদপে দাঁতের ব্যথা, বিশেষ করে রাতে ঘুম ভেঙে দেওয়া ব্যথা
- গরম বা ঠান্ডা খাবারের পর অনেকক্ষণ থাকা ব্যথা
- কামড় দিলে বা দাঁতে চাপ দিলে ব্যথা
- ব্যথার দাঁতের পাশে মাড়ি বা মুখ ফুলে যাওয়া, অথবা মাড়িতে ফুসকুড়ির মতো দানা
- দাঁতের রং কালচে হয়ে যাওয়া
- খুব গভীর গর্ত বা স্নায়ু পর্যন্ত পৌঁছানো ফাটা দাঁত
চিকিৎসার ধারাবাহিক ধাপসমূহ
১. পরীক্ষা ও এক্স-রে
ডেন্টিস্ট দাঁতটি পরীক্ষা করেন এবং শিকড় ও আশপাশের হাড় দেখতে এক্স-রে করেন, তারপর রুট ক্যানেল প্রয়োজন কি না তা ব্যাখ্যা করেন।
২. লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া
দাঁত ও আশপাশের অংশ অবশ করা হয়, যাতে চিকিৎসার সময় স্বস্তি নিশ্চিত থাকে এবং অস্বস্তি যথাসম্ভব কম হয়।
৩. ক্যানেল পরিষ্কার ও আকৃতি দেওয়া
দাঁতে ছোট একটি পথ করে সংক্রমিত পাল্প বের করা হয়, তারপর ক্যানেলগুলো পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত ও আকৃতি দেওয়া হয়।
৪. ক্যানেল সিল করা
পরিষ্কার করা ক্যানেলগুলো ভরাট করে সিল করা হয়, যাতে জীবাণু আবার ঢুকতে না পারে। দাঁতভেদে এতে এক বা দুইবার আসতে হতে পারে।
৫. দাঁত পুনর্গঠন
দাঁতটি ফিলিং বা ক্রাউন দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়, যাতে স্বাভাবিকভাবে চিবানো যায় এবং ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকে।
চিকিৎসা পরবর্তী যত্ন ও রিকভারি
বেশিরভাগ মানুষ একই দিন বা পরের দিনই স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন। কয়েক দিন দাঁতটি স্পর্শকাতর লাগতে পারে, কারণ শিকড়ের আশপাশের টিস্যু সেরে উঠছে।
- ব্যথানাশক ওষুধ শুধু ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী খান।
- চূড়ান্ত ফিলিং বা ক্রাউন না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা করা দাঁতে শক্ত খাবার চিবানো এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লস করুন, তবে চিকিৎসা করা দাঁতের চারপাশে আলতোভাবে।
- ফিলিং বা ক্রাউন সম্পন্ন করতে ফলো-আপ ভিজিটে আসুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
মোহাম্মদপুর ডেন্টালে আপনার পরামর্শের সিরিয়াল নিশ্চিত করুন
ডা. কাজিরুল ইসলাম ফাইহান-এর কাছে পরিষ্কার ও ব্যথামুক্ত চিকিৎসা পরামর্শের জন্য আজই যোগাযোগ করুন।